ঢাকা , শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু বসে থাকলে হবে না: রেল প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ০৪:০৪:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ০৪:০৪:০০ অপরাহ্ন
সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু বসে থাকলে হবে না: রেল প্রতিমন্ত্রী ছবি : সংগৃহীত
শনিবার সকালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে যান রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। রেলওয়ের নানা সীমাবদ্ধতা ও লোকোমোটিভ সংকটের কথা স্বীকার করে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, “সমস্যা রয়েছে বলেই বসে থাকলে চলবে না। সীমিত সম্পদের মধ্যেও জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সিলেট অঞ্চলের রেল উন্নয়নকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।” 

শনিবার (৯ মে) সকালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ বলেন, “দেশের অনেক রেলপথ এখনো সিঙ্গেল লাইনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোথাও একটি ইঞ্জিন বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো রুটে দীর্ঘ সময়ের জন্য শিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে সরকার কাজ করছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সীমাবদ্ধতা নিয়ে বসে থাকলে হবে না। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কীভাবে জনগণকে ভালো সেবা দেওয়া যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি।”

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী জানান, মিটারগেজ অঞ্চলে লোকোমোটিভ সংকট বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। যেসব রুটে ৩০ সিরিজের লোকোমোটিভ ব্যবহার হওয়ার কথা, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ২৯ সিরিজের ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। কোথাও ৩০ থেকে ৩৫টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও সচল অবস্থায় আছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি। বাকিগুলো মেরামত করে চালাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু সমস্যা নিয়ে বসে থাকতে চাই না, সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমাদের যতটুকু সক্ষমতা আছে, সেই জায়গায় দায়িত্বে কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেবায় কোনো দুর্বলতা আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা নিজেরাই মাঠপর্যায়ে যাচ্ছি।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেল কর্মকর্তাদেরও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। “ঢাকায় বসে অফিস করলে হবে না। সবাইকে নিজ নিজ জোনে যেতে হবে, সেবা পরিস্থিতি দেখতে হবে। কোথাও দায়িত্বে অবহেলা হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বে কোনো গাফিলতি আমরা মেনে নেব না।”

সিলেট অঞ্চলের রেল উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সিলেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং সেই কারণে রেল উন্নয়ন পরিকল্পনায়ও অঞ্চলটি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সিলেটে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি বর্তমানে সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে।”

ঈদ সামনে রেখে সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত কোচ ও লোকোমোটিভ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। বলেন, “নতুন লোকোমোটিভ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরো সেবা বাড়ানো সম্ভব হবে।”

রেলের জমি দখলমুক্ত করার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, “রেলের যেসব জমি বেদখল হয়েছে, সেগুলো উদ্ধার করতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে–ই দখল করে থাকুক না কেন, তাকে উচ্ছেদ করা হবে।”

রেলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পণ্য পরিবহন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশে রেল মূলত পণ্য পরিবহন থেকেই লাভবান হয়। বাংলাদেশেও সেই খাতকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রীসেবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন বাড়াতে পারলে রেলের আয় বাড়বে। মানুষ এখন রেলে ভ্রমণে আগ্রহী। তাই সেবার মানো বাড়াতে হবে।”
  
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ